বৈশাখীর লাল শাড়ি
(ছোট গল্প)
সাহানুকা হাসান শিখা
পহেলা বৈশাখে জন্ম হয়েছিলো বলে বাবা,মা আদর
করে তার নাম দেয় বৈশাখী। গরীবের ঘরে ইলিশ
নেই শুধু পান্তা খেয়েই বড় হয় সেই বৈশাখী।
দিন মজুর বাবা, মা করে বুয়ার কাজ।গ্রামের কুঁড়েঘরে ধুলা বালির সাথে মিতালী করে বড় হতে থাকে বৈশাখী। কিন্তু মনে তার দারুণ সাধ আহ্লাদ।
সে বড় ঘরের মেয়েদের মত স্কুলে যাবে, সুন্দর কাপড়
পরবে, পহেলা বৈশাখে লাল শাড়ি, লাল ফিতা
রেশমী চুড়ি পরে মেলায় যাবে, ঘুড়ি উড়াবে মুক্ত
আকাশে, তার কমল মনটি উড়ে বেড়ায় কাল
বৈশাখী হাওয়ায়, হৃদয় জুড়ে বাজে ঝুনঝুনির
শব্দ। কিশোরী মেয়ে বৈশাখীর বাবা হঠাৎ একদিন
তাদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমায়,এই খেটে খাওয়া
মানুষটির আয়ের দুটো টাকার জন্য পাড়ার বখাটে
পুলাপানরা তাকে খুন করে বস্তির পুকুরে লাশ ফেলে
রাখে, বৈশাখী এতিম হয়ে যায় এই অল্প বয়সে।
,প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে একটা না একটা
শখের জিনিস মেয়েকে এনে দিত বৈশাখীর বাবা
জমির আলি, এবার তাও নেই, বড় অসহায় হয়ে
গেলো মা মেয়ে।
বৈশাখীর মা আর আগের মত কাজ করতে পারেনা।
শুধু মাতবর বাড়িতে কাজ করে অল্প টাকা কামাই
করে, কোন রকম তাদের ডাল ভাত জুটে দু’বেলা।
কিন্তু বৈশাখীর অবুঝ মন মানে না,সে মেলায় যেতে
চায় লাল শাড়ি পরে। আরও দশটা মেয়ের মত।
মা কে বলে মা এবার আমাকে একটা লাল
শাড়ি আর এক ডজন রেশমী চুড়ি এনে দাও।
আমার খুব ইচ্ছা করছে গো’মা ময়না বুর মত
সাজুগুজ করে মেলায় যাইতে।
মাতবরের মেয়ের নাম ময়না, বয়সে বৈশাখীর চেয়ে
বড়, বৈশাখী ওকে ময়না বু বলে ডাকে।
মা গোপনে চোখের জল মুছে, আজ ওর বাবা বেঁচে
থাকলে মেয়ের আবদার যে করে হউক পুরা করতো।
সে এখন কোথায় পাবে এতো টাকা! মেয়ের শখ
আর পূর্ণ হবে না। মাতবর বাড়িতে কিছু
ধার টাকা চেয়েছিল, কাজ করে পুষিয়ে দিবে বলে কিন্তু মাতবর গিন্নি না করে দিলো।
দুদিন পরই মেলা,মেয়ে কে কি বলবে ভেবে পায় না
আমেনা (বৈশাখীর মা )।
মাতবরের মেয়ে ময়না তার ভাইয়ের সাথে রিক্সা
করে আসছে শহর থেকে লাল শাড়ি রেশমী চুড়ি
লিপস্টিক নিয়ে, বৈশাখী বলে ময়না বু ও ময়না বু
কি আনছো তুমি ? আমারে দেখাইবা ?
ময়না ধমক দিয়ে বলে যাহ্ তুই এসব কি দেখবি?
বৈশাখী ভাবে গরীবের কি দেখারও শখ নেই ?
পরা তো দূরের কথা। মনের কষ্টে চোখে জল আসে
বৈশাখীর। ধীরে ধীরে মাতবর বাড়ির দরজা দিয়ে
বের হবে ঠিক এই সময় ময়নার ভাই বাবুল জীগেস
করে কিরে বৈশাখী তোর কি অইছে, মন খারাপ
কেন ? বৈশাখী বলে কিছু না ভাইজান।
বাবুল বুঝতে পারে বৈশাখী মেলায় যাবে ওর শাড়ি
নেই তাই মন খারাপ করেছে, সে সাথে সাথে বৈশাখী
কে কাছে ডেকে নিয়ে বলে, শুন বোন আমি তোর
ভাই, ময়না যেমুন আমার বোন তুইও আমার বোন
আমি আজই তোর লাইগ্যা লাল শাড়ি রেশমী
চুড়ি কিনা আনমু, আজ সন্ধ্যায় ঐ মাঠের ঝুপের
কাছে তুই আসবি।
বৈশাখী জীগেস করে কেন ভাইজান বাড়ি রেখে
ঐ ঝুপের মাঝে ক্যান? বাবুল বলে আমাদের বাড়িতে
আমার মা দেখলে রাগ করবো, তোগো বাড়িতে
তোর মায় রাগ করবো, তাই ঐ বনের আড়ালে কেউ
দেখবো না, আমি দিমু আর তুই নিয়ে তাড়াতাড়ি
চলে আসবি, তোর মা জীগাইলে বলবি ময়না দিছে।
বৈশাখী খুশিতে আটকানা তার ইচ্ছা পূর্ণ হলো
এবার, সে লাল শাড়ি পরে মেলায় যেতে পারবে।
ঠিক সন্ধ্যার পর বৈশাখী ঐ বনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো, মা কে কিছু বলে নাই, লুকিয়ে চলে
গেলো সেখানে,পৌঁছার পর ভয়ে তার গা ছমছম
করতে লাগলো, নির্জন অন্ধকার কোথাও কেউ নেই
সে ডাকতে লাগলো বাবুল ভাই ও বাবুল ভাই
তুমি কই ? কাপড় আনছো?
হঠাৎ বৈশাখী টের পেলো কারা যেন তার চোখ
বেঁধে ফেলেছে, টেনে তার পেন্ট জামা সব খুলছে
সে চিৎকার করতে চাইচে, কিন্তু পারছে না তার
মুখে টেপ লাগানো এক অজানা অত্যাচারে
আর্তনাদ করছে এরপর সে আর কিছুই অনুভব
করতে পারে নাই।
বৈশাখার মা কাজ সেরে ঘরে ফিরে দেখে দরজা
খোলা, সে ডাকে মা বৈশাখী কই গেলি রে? ঘরে
বাতি নাই কেন ? বাতি জ্বালাস নাই মা ?
কোন সাড়া না পেয়ে আমেনা চিন্তায় পড়ে যায়
মেয়ে তো এভাবে কখনও কোথায় যায় না।
আজ কি হলো? সে চারিদিকে খুঁজা খুঁজি শুরু
করলো,কেউ কিছুই বলতে পারে না, রাত ১২ টা
বাজে কোন খবর নেই, আমেনার কান্নায় আশপাশের
মহিলারা ছুটে আসে, কোন একজন গিয়ে থানায়
খবর দেয়। এভাবে সারা রাত কাটে, আমেনা বার
বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে, মহিলারা মাথায় পানি দিচ্ছে।
হঠাৎ গাড়ির শব্দ কানে আসে আমেনার, পুলিশের
গাড়ি, বড় লাইট জ্বলছে। তিন চারজন পুলিশ
এসে জানালো ঐ মাঠের কাছে ছোট ডোবায়
পানির নীচে বৈশাখীর লাশ পাওয়া গেছে।
আমেনার মাথায় বাজ পড়লো, একি শুনছে সে!!
কে ওর বুকের ধন কেড়ে নিলো, আমেনার আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। পুলিশ
বললো কয়েকটা ছেলে মিলে ধর্ষন করে বৈশাখী কে
হত্যা করে। আমেনা স্পস্ট দেখতে পাচ্ছে
রক্ত্ রাঙা লাল শাড়ি পরে তার মেয়ে এগিয়ে আসছে,
আর বলছে চলো মা মেলাতে যাই, আমাকে লাল
শাড়ির কথা বলে ওরা খুন করেছে গো মা।
আমি আর লাল শাড়ি ছাইমু না।
এক সন্ধ্যায় তার মেয়ে ঘর ছেড়ে গিয়েছিলো, আর
এখন আমেনা আরেক সন্ধ্যার অপেক্ষায় প্রহর
গুনছে, সুর্য্য ডুবার পর পর আমেনা কমেরে কাপড়
বেঁধে লম্বা রাম দা হাতে নিয়ে মাঠের দিকে ছুটে।
মাতবরের ছেলে পাষাণ নরপিচাশ বাবুলের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। রাম দার কোপে তার শরীর থেকে মাথা আলাদা করে নিয়ে থানার দিকে ছুটে যায়।
পেছন থেকে কানে ভাসে বৈশাখীর চিৎকার।
মা গো মা ওদের তুমি ক্ষমা করো না।
(ছোট গল্প)
সাহানুকা হাসান শিখা
পহেলা বৈশাখে জন্ম হয়েছিলো বলে বাবা,মা আদর
করে তার নাম দেয় বৈশাখী। গরীবের ঘরে ইলিশ
নেই শুধু পান্তা খেয়েই বড় হয় সেই বৈশাখী।
দিন মজুর বাবা, মা করে বুয়ার কাজ।গ্রামের কুঁড়েঘরে ধুলা বালির সাথে মিতালী করে বড় হতে থাকে বৈশাখী। কিন্তু মনে তার দারুণ সাধ আহ্লাদ।
সে বড় ঘরের মেয়েদের মত স্কুলে যাবে, সুন্দর কাপড়
পরবে, পহেলা বৈশাখে লাল শাড়ি, লাল ফিতা
রেশমী চুড়ি পরে মেলায় যাবে, ঘুড়ি উড়াবে মুক্ত
আকাশে, তার কমল মনটি উড়ে বেড়ায় কাল
বৈশাখী হাওয়ায়, হৃদয় জুড়ে বাজে ঝুনঝুনির
শব্দ। কিশোরী মেয়ে বৈশাখীর বাবা হঠাৎ একদিন
তাদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমায়,এই খেটে খাওয়া
মানুষটির আয়ের দুটো টাকার জন্য পাড়ার বখাটে
পুলাপানরা তাকে খুন করে বস্তির পুকুরে লাশ ফেলে
রাখে, বৈশাখী এতিম হয়ে যায় এই অল্প বয়সে।
,প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে একটা না একটা
শখের জিনিস মেয়েকে এনে দিত বৈশাখীর বাবা
জমির আলি, এবার তাও নেই, বড় অসহায় হয়ে
গেলো মা মেয়ে।
বৈশাখীর মা আর আগের মত কাজ করতে পারেনা।
শুধু মাতবর বাড়িতে কাজ করে অল্প টাকা কামাই
করে, কোন রকম তাদের ডাল ভাত জুটে দু’বেলা।
কিন্তু বৈশাখীর অবুঝ মন মানে না,সে মেলায় যেতে
চায় লাল শাড়ি পরে। আরও দশটা মেয়ের মত।
মা কে বলে মা এবার আমাকে একটা লাল
শাড়ি আর এক ডজন রেশমী চুড়ি এনে দাও।
আমার খুব ইচ্ছা করছে গো’মা ময়না বুর মত
সাজুগুজ করে মেলায় যাইতে।
মাতবরের মেয়ের নাম ময়না, বয়সে বৈশাখীর চেয়ে
বড়, বৈশাখী ওকে ময়না বু বলে ডাকে।
মা গোপনে চোখের জল মুছে, আজ ওর বাবা বেঁচে
থাকলে মেয়ের আবদার যে করে হউক পুরা করতো।
সে এখন কোথায় পাবে এতো টাকা! মেয়ের শখ
আর পূর্ণ হবে না। মাতবর বাড়িতে কিছু
ধার টাকা চেয়েছিল, কাজ করে পুষিয়ে দিবে বলে কিন্তু মাতবর গিন্নি না করে দিলো।
দুদিন পরই মেলা,মেয়ে কে কি বলবে ভেবে পায় না
আমেনা (বৈশাখীর মা )।
মাতবরের মেয়ে ময়না তার ভাইয়ের সাথে রিক্সা
করে আসছে শহর থেকে লাল শাড়ি রেশমী চুড়ি
লিপস্টিক নিয়ে, বৈশাখী বলে ময়না বু ও ময়না বু
কি আনছো তুমি ? আমারে দেখাইবা ?
ময়না ধমক দিয়ে বলে যাহ্ তুই এসব কি দেখবি?
বৈশাখী ভাবে গরীবের কি দেখারও শখ নেই ?
পরা তো দূরের কথা। মনের কষ্টে চোখে জল আসে
বৈশাখীর। ধীরে ধীরে মাতবর বাড়ির দরজা দিয়ে
বের হবে ঠিক এই সময় ময়নার ভাই বাবুল জীগেস
করে কিরে বৈশাখী তোর কি অইছে, মন খারাপ
কেন ? বৈশাখী বলে কিছু না ভাইজান।
বাবুল বুঝতে পারে বৈশাখী মেলায় যাবে ওর শাড়ি
নেই তাই মন খারাপ করেছে, সে সাথে সাথে বৈশাখী
কে কাছে ডেকে নিয়ে বলে, শুন বোন আমি তোর
ভাই, ময়না যেমুন আমার বোন তুইও আমার বোন
আমি আজই তোর লাইগ্যা লাল শাড়ি রেশমী
চুড়ি কিনা আনমু, আজ সন্ধ্যায় ঐ মাঠের ঝুপের
কাছে তুই আসবি।
বৈশাখী জীগেস করে কেন ভাইজান বাড়ি রেখে
ঐ ঝুপের মাঝে ক্যান? বাবুল বলে আমাদের বাড়িতে
আমার মা দেখলে রাগ করবো, তোগো বাড়িতে
তোর মায় রাগ করবো, তাই ঐ বনের আড়ালে কেউ
দেখবো না, আমি দিমু আর তুই নিয়ে তাড়াতাড়ি
চলে আসবি, তোর মা জীগাইলে বলবি ময়না দিছে।
বৈশাখী খুশিতে আটকানা তার ইচ্ছা পূর্ণ হলো
এবার, সে লাল শাড়ি পরে মেলায় যেতে পারবে।
ঠিক সন্ধ্যার পর বৈশাখী ঐ বনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো, মা কে কিছু বলে নাই, লুকিয়ে চলে
গেলো সেখানে,পৌঁছার পর ভয়ে তার গা ছমছম
করতে লাগলো, নির্জন অন্ধকার কোথাও কেউ নেই
সে ডাকতে লাগলো বাবুল ভাই ও বাবুল ভাই
তুমি কই ? কাপড় আনছো?
হঠাৎ বৈশাখী টের পেলো কারা যেন তার চোখ
বেঁধে ফেলেছে, টেনে তার পেন্ট জামা সব খুলছে
সে চিৎকার করতে চাইচে, কিন্তু পারছে না তার
মুখে টেপ লাগানো এক অজানা অত্যাচারে
আর্তনাদ করছে এরপর সে আর কিছুই অনুভব
করতে পারে নাই।
বৈশাখার মা কাজ সেরে ঘরে ফিরে দেখে দরজা
খোলা, সে ডাকে মা বৈশাখী কই গেলি রে? ঘরে
বাতি নাই কেন ? বাতি জ্বালাস নাই মা ?
কোন সাড়া না পেয়ে আমেনা চিন্তায় পড়ে যায়
মেয়ে তো এভাবে কখনও কোথায় যায় না।
আজ কি হলো? সে চারিদিকে খুঁজা খুঁজি শুরু
করলো,কেউ কিছুই বলতে পারে না, রাত ১২ টা
বাজে কোন খবর নেই, আমেনার কান্নায় আশপাশের
মহিলারা ছুটে আসে, কোন একজন গিয়ে থানায়
খবর দেয়। এভাবে সারা রাত কাটে, আমেনা বার
বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে, মহিলারা মাথায় পানি দিচ্ছে।
হঠাৎ গাড়ির শব্দ কানে আসে আমেনার, পুলিশের
গাড়ি, বড় লাইট জ্বলছে। তিন চারজন পুলিশ
এসে জানালো ঐ মাঠের কাছে ছোট ডোবায়
পানির নীচে বৈশাখীর লাশ পাওয়া গেছে।
আমেনার মাথায় বাজ পড়লো, একি শুনছে সে!!
কে ওর বুকের ধন কেড়ে নিলো, আমেনার আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। পুলিশ
বললো কয়েকটা ছেলে মিলে ধর্ষন করে বৈশাখী কে
হত্যা করে। আমেনা স্পস্ট দেখতে পাচ্ছে
রক্ত্ রাঙা লাল শাড়ি পরে তার মেয়ে এগিয়ে আসছে,
আর বলছে চলো মা মেলাতে যাই, আমাকে লাল
শাড়ির কথা বলে ওরা খুন করেছে গো মা।
আমি আর লাল শাড়ি ছাইমু না।
এক সন্ধ্যায় তার মেয়ে ঘর ছেড়ে গিয়েছিলো, আর
এখন আমেনা আরেক সন্ধ্যার অপেক্ষায় প্রহর
গুনছে, সুর্য্য ডুবার পর পর আমেনা কমেরে কাপড়
বেঁধে লম্বা রাম দা হাতে নিয়ে মাঠের দিকে ছুটে।
মাতবরের ছেলে পাষাণ নরপিচাশ বাবুলের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। রাম দার কোপে তার শরীর থেকে মাথা আলাদা করে নিয়ে থানার দিকে ছুটে যায়।
পেছন থেকে কানে ভাসে বৈশাখীর চিৎকার।
মা গো মা ওদের তুমি ক্ষমা করো না।
বৈশাখীর লাল শাড়ি
Reviewed by Pobittro Roy
on
12:19 AM
Rating:
Reviewed by Pobittro Roy
on
12:19 AM
Rating:

No comments: