সিংহ ও দুষ্টু শেয়াল

সিংহ ও দুষ্টু শেয়াল 
লেখক : ইমরান খান রাজ


এক বনে বাস করতো দুষ্টু শেয়াল। সে ছিলো মিথ্যাবাদী আর অনেকটা চালাক প্রকৃতির। সে সবসময় বনের অন্য পশুপাখিকে বোকা বানাতো এবং তাদের মাংস খেয়ে পেট পূজা করতো। এভাবে চলতে চলতে বনের বেশিরভাগ পশুপাখি বিলীন হয়ে যেতে লাগলো ! দুষ্টু শেয়ালের এমন কর্মকাণ্ডে অন্যান্য পশুপাখিরা তাকে অবিশ্বাস করতো ও এড়িয়ে চলতো। আর এতে সেই শেয়ালের দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলো। কারন খাবার খেতে না পারলে, সে না খেয়েই মরে যাবে ! সেজন্য দুষ্টু শেয়াল তার মাথায় আনলো এক নতুন বুদ্ধি ! 

বনের রাজা সিংহের সাথে দেখা করে এক নতুন চুক্তি করলো সে। বিভিন্ন পশুপাখির বাড়ির সন্ধান সে সিংহ'কে দিবে। বিনিময়ে সিংহের শিকার করা খাবার তাকে অর্ধেক দিতে হবে। সিংহ অতটা চালাক না হলেও মাংস পাওয়ার লোভে শেয়ালের চুক্তিতে রাজি হয়ে গেলো। 

একদিন হাঁপাতে হাঁপাতে শেয়াল পণ্ডিত চলে এলো সিংহের গুহায়। 


ঘুমিয়ে থাকা ক্ষুধার্ত সিংহ'কে ডেকে তুলে জানায়, বনের গভীরে এক পাহাড়ের পিছনে বেশকিছু সুন্দর হরিণ বাস করে। সে যদি এখনই রওনা হয় তবে সবকটা হরিণের শিকার করতে পারবে। শেয়ালের এমন খবর শুনে সিংহ মশাই ঘুমন্ত শরীরে শক্তি ফিরে পেলো৷ সাথে সাথেই শেয়ালের সঙ্গে রওনা হলো হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে। সিংহ সামনে আর তার পেছনেই শেয়াল পণ্ডিত মনের খুশিতে হেটে চলছে। শেয়াল মনে মনে ভাবছে আজ অনেকদিন পর সুস্বাদু হরিণের মাংস খাবে ! সিংহ'কে দিয়ে সবগুলো হরিণ শিকারের পর অর্ধেক মাংস ভাগ পাবে সে। মাংসগুলো অনেকদিন পর্যন্ত চলে যাবে তার। 

অনেকদূর হাটার পর দূরে একটা পাহাড় দেখা গেলো। এদিকে হাটতে হাটতে সিংহের প্রচুর ক্ষুধা লেগে লেগো। পেছন থেকে শেয়াল পণ্ডিত বলে উঠলো, সিংহ মশাই আপনার আর কষ্ট করে হাটতে হবেনা। আমরা চলে এসেছি। আপনার সামনে যেই পাহাড়টা দেখতে পাচ্ছেন, তার পিছনেই বাস করে হরিণগুলো। আপনি চুপচাপ এগিয়ে গিয়ে ওদের ওপর আক্রমণ করুন। শিকার করা হয়ে গেলে আমাকে ডাকবেন। আমি আমার ভাগের অংশ বুঝে নিবো। 

এরপর সিংহ নিশ্চুপ হয়ে আস্তে আস্তে পাহাড়ের পিছনে যায়। গিয়ে তো সিংহ অবাক ! নেই কোন হরিণ আর নেই কোন মাংস ! পুরো জায়গা ফাঁকা। সিংহ বুঝতে পারে যে, হয়তো হরিণগুলো খবর পেয়ে আগেই ঘরছেড়ে পালিয়েছে। ক্ষুধার্ত সিংহ এই ঘটনা দেখে খুব রেগে যায় শেয়ালের ওপর। তাই সিংহ নতুন এক ফন্দি করে। সে ওখান থেকে বেরিয়ে শেয়ালের কাছে আসে এবং বলে, ধন্যবাদ শেয়াল পণ্ডিত। আজ তোর জন্য অনেকগুলো হরিণ শিকার করতে পেরেছি। আমি পেটভরে খেয়েছি মাংস। তুই এসে তোর ভাগেরটা নিয়ে যা। এই খবরে দুষ্টু শেয়াল খুব খুশি হয়ে সিংহের সাথে পাহাড়ের পিছনে হরিণের বাসার দিকে যায়। গিয়ে দ্যাখে সেখানটা পুরো খালি পড়ে আছে। না আছে কোন হরিণ আর না আছে কোন মাংস ! এটা দেখার পর সিংহ'কে তার ভাগের অংশের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার জন্য যেই পিছনে তাকায়, অমনি ক্ষুধার্ত সিংহটা এক থাবায় শিকার করে ফেলে দুষ্টু শেয়ালটাকে। তারপর শেয়ালটাকে পুরোপুরি খেয়ে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে বনের রাজা সিংহ। 

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়, অতি লোভ এবং মিথ্যা বলা মোটেও উচিত নয়। লোভের ফলে মৃত্যু হয়। আর অন্যের জন্য গর্ত করলে সেই গর্তে নিজেকেই পড়ে মরতে হয়। 

লেখক পরিচিতি:
নামঃ ইমরান খান রাজ 
ঠিকানাঃ নারিশা, দোহার-ঢাকা ১৩৩২। 
ই-মেইলঃ imrankhanraj222@gmail.com

সিংহ ও দুষ্টু শেয়াল সিংহ ও দুষ্টু শেয়াল Reviewed by Pobittro Roy on 10:55 PM Rating: 5

No comments:

Random-Posts

3/random/post-list
Powered by Blogger.